| বঙ্গাব্দ

৬% পতনে ১ লাখ ডলারের নিচে বিটকয়েন, চাপে ক্রিপ্টো ও তেলবাজার

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 05-11-2025 ইং
  • 3663994 বার পঠিত
৬% পতনে ১ লাখ ডলারের নিচে বিটকয়েন, চাপে ক্রিপ্টো ও তেলবাজার
ছবির ক্যাপশন: বিটকয়েন

এক ধাক্কায় ৬% মূল্য হারাল বিটকয়েন, জুনের পর প্রথমবার ১ লাখ ডলারের নিচে

প্রতিবেদনকারীর নাম: বিডিএস বুলবুল আহমেদ


এক দিনে ৬% পতন, ১ লাখ ডলারের নিচে বিটকয়েন

বিশ্বের শীর্ষ ডিজিটাল মুদ্রা বিটকয়েন (Bitcoin) আবারও বড় ধরনের ধাক্কার মুখে। বুধবার (৫ নভেম্বর) এক দিনেই ৬ শতাংশের বেশি মূল্য হারিয়েছে এই ক্রিপ্টোকারেন্সি। জুনের পর এই প্রথমবার বিটকয়েনের দাম নেমে গেছে ১ লাখ ডলারের নিচে।

গত কয়েক দিনের ধারাবাহিক পতনের পর বিটকয়েনের দাম দাঁড়িয়েছিল ১ লাখ ১ হাজার ৮২২ ডলারে। সেখান থেকে বুধবার আরও প্রায় ৩.৭ শতাংশ কমে প্রতি বিটকয়েনের মূল্য নেমে আসে ৯৯ হাজার ১০ ডলারে। এই দর অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার প্রায় ১২২ টাকায় ধরে) এক বিটকয়েনের দাম দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১২১ লাখ টাকার ঘরে।


কীভাবে বাড়ল, আবার কমল বিটকয়েনের দাম

বছরের শুরু থেকেই বিটকয়েনের দামে একের পর এক রেকর্ড গড়া উত্থান দেখা গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর বৈশ্বিক জল্পনা–কল্পনা, ক্রিপ্টো মার্কেটে নতুন আগ্রহ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা–সম্পর্কিত বিনিয়োগের জোয়ারে বিটকয়েন ও অন্যান্য ডিজিটাল সম্পদের দাম লাফিয়ে বাড়তে থাকে।

এর প্রভাবেই অক্টোবর মাসে বিটকয়েনের দাম পৌঁছেছিল প্রতি ইউনিট ১ লাখ ২৬ হাজার ১৮৬ ডলারে, যা ছিল নতুন সর্বোচ্চের কাছাকাছি একটি ধাপ। কিন্তু সেই শিখর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ শতাংশ দাম হারিয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি।

বাজার বিশ্লেষকদের ভাষায়, সাম্প্রতিক এই পতন ছিল “বহুদিনের জমে থাকা সংশোধন” বা মার্কেট কারেকশন।


পতনের পেছনে কারণ কী?

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, কয়েকটি বড় কারণ একসঙ্গে কাজ করছে—

  • বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে অস্থিরতা: ওয়াল স্ট্রিটসহ বিভিন্ন বাজারে সম্ভাব্য বড় ধরণের সংশোধনের ইঙ্গিত দিয়েছেন বেশ কিছু শীর্ষ নির্বাহী ও ফান্ড ম্যানেজার। ফলে উচ্চ ঝুঁকির সম্পদ থেকে অর্থ তুলে নিচ্ছেন অনেক বিনিয়োগকারী।

  • ঝুঁকিমুক্ত সম্পদের দিকে ঝোঁক: অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়লে বিনিয়োগকারীরা ঐতিহ্যগতভাবে “সেফ অ্যাসেট” বা তুলনামূলক নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকেন। এতে ক্রিপ্টো ও প্রযুক্তিখাত থেকে মূলধন সরে যাচ্ছে।

  • প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়া: গত কয়েক মাসে যে প্রাতিষ্ঠানিক অর্থ ক্রিপ্টো মার্কেটে এসেছে, সাম্প্রতিক পতনে তার বড় অংশ মুনাফা তুলে নিয়ে সাইডলাইনে চলে যাচ্ছে।

ফলে শুধু বিটকয়েন নয়, ইথারিয়ামসহ অন্য শীর্ষ ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলোর দামও কমছে। ফলে গত কয়েক মাসে যে লাভ জমেছিল, তার বড় অংশ উড়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে খুচরা ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে।


বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মুদ্রাবাজারে প্রতিক্রিয়া

ক্রিপ্টো বাজারের এই পতনের পেছনে বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারেরও প্রভাব রয়েছে। নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝোঁকের কারণে—

  • মার্কিন ডলার ইউরোর বিপরীতে চার মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে

  • ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের আয়ের হার নেমে এসেছে প্রায় ৪.০৮৭ শতাংশে

  • ইউরো টানা পঞ্চম দিনের মতো কমে ১.১৪৮–এ নেমে গেছে, যা ১ আগস্টের পর সর্বনিম্ন

  • ব্রিটিশ পাউন্ড ০.৭২ শতাংশ কমে ১.৩০ ডলারে লেনদেন হয়েছে

অর্থাৎ, বিনিয়োগকারীরা ক্রিপ্টো ও ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারের বদলে ডলার ও সরকারি বন্ডে ঝুঁকছেন—যা আবার ক্রিপ্টোসহ পণ্য বাজারে চাপ বাড়াচ্ছে।


তেলবাজারেও ‘ক্রিপ্টো ইফেক্ট’

ডলার শক্তিশালী হলে সাধারণত পণ্যমূল্য (কমোডিটি) চাপের মুখে পড়ে, কারণ ডলারে হিসাব হওয়ায় অন্য মুদ্রাধারীদের জন্য দাম তুলনামূলক বেশি পড়ে। ক্রিপ্টো পতনের সময়ের এই ডলার শক্তিশালী হওয়া তেলবাজারেও প্রভাব ফেলেছে।

  • মার্কিন ক্রুড অয়েল প্রতি ব্যারেল ৪৯ সেন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬০.৫৬ ডলারে

  • ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল ৪৫ সেন্ট কমে নেমেছে ৬৪.৪৪ ডলারে

বিশ্লেষকদের মতে, ক্রিপ্টো থেকে অর্থ সরে যাওয়া, ডলার শক্তিশালী হওয়া এবং বৈশ্বিক চাহিদা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে তেলবাজারও এখন চাপের মধ্যে আছে।


সামনে কী হতে পারে?

স্বল্পমেয়াদে বিটকয়েনের দাম কোথায় থামবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও কয়েকটি বিষয়ে তারা প্রায় একমত—

  • বাজারে প্রবেশ করা নতুন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্কজনিত বিক্রি (“প্যানিক সেল”) বাড়লে আরও কিছুটা নিম্নমুখী চাপ থাকতে পারে

  • দীর্ঘমেয়াদী, অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা (লং-টার্ম হোল্ডার) এই সুযোগে ধীরে ধীরে কিনে নিতে পারেন

  • বৈশ্বিক অর্থনীতি ও সুদের হারের নীতি স্থির না হওয়া পর্যন্ত ক্রিপ্টো বাজারে উচ্চ ভোলাটিলিটি বা ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে

অর্থাৎ, বিটকয়েনের সাম্প্রতিক পতন শুধু একটি ডিজিটাল সম্পদের দামের গল্প নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি, মুদ্রাবাজার, পণ্যবাজার ও বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি–মানসিকতার যৌথ প্রতিফলন।


সূত্র

  1. আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজার বিশ্লেষণ সংস্থার তথ্য

  2. বৈশ্বিক মুদ্রাবাজার ও কমোডিটি মার্কেট পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন

  3. মার্কেট বিশ্লেষকদের সাম্প্রতিক মন্তব্য ও রিপোর্ট

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency